দ্বীনকে সহজতর উপায়ে মানুষের নিকট তুলে ধরতে ইলমুল ফিকহে যে চারজন ইমামের অবদান সর্বাধিক, তাঁরা হলেন— ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)। এ চার ইমামের জীবন ও কর্মই সংক্ষিপ্তরূপে বর্ণিত হয়েছে মাআল আইম্মাহ-এর প্রতিটি পৃষ্ঠায়। এর সুরভিত পাঠ পাঠককে নিয়ে যাবে বহুকাল আগের সেই সোনালি যুগে—যেখানে তাঁরা বেড়ে উঠেছেন, ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং…
বিপ্লবী এক জীবনদর্শন। যার পরশে বদলে যায় মানুষের অন্তর্গত সত্তা। নবিজির জানের দুশমন হয়ে ওঠে ইসলামি জাহানের খলিফা। ডাকাত পরিণত হয় আল্লাহর ওলিতে। সাধারণ এক ক্রীতদাস জায়গা করে নেয় যুগশ্রেষ্ঠদের মিছিলে। এ যেন আশ্চর্য এক জিয়নকাঠি! মানুষের মৃতপ্রায় বিবেককে জাগিয়ে তোলে। শরীরের প্রতিটি লোমকূপে জাগায় অপার্থিব শিহরন। সেই বৈপ্লবিক জীবনব্যবস্থার নাম ইসলাম। আর এর সংবিধান হলো আল কুরআন। হেরা পর্বতের…
মুসলিম হিসেবে আমাদের নিকট ইসলামের প্রথম দাবিটিই হলো বিশ্বাস। এক মহাপরাক্রমশালী সত্তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধীনে চলছে এ বিশ্বজগৎ। তিনি দৃশ্যমান নন, কিন্তু একজন বিশ্বাসী গোটা সৃষ্টিকুলের মাঝে অনুভব করেন তাঁর প্রবল অস্তিত্ব। এই বিশাল সৃষ্টিরাজির মহাবিস্ময় দেখে বিশ্বাসী মন অজান্তেই বলে ওঠে—নিশ্চয় কেউ একজন আছেন, যিনি দৃশ্যকল্পের অন্তরাল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন সবকিছু।
অন্তরে প্রশান্তির প্রধান উপায় হলো—ইবাদত। রাসূলে আকরাম (সা.) ও সম্মানিত সাহাবিগণ ইবাদতের বদৌলতেই লাভ করেছিলেন সাকিনাতুল ক্বলব বা শান্তিময় অন্তর। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপকেই তাঁরা সাজিয়েছিলেন ইবাদতের রুপালি মোড়কে। আনুষ্ঠানিক ইবাদতসমূহকে তাঁরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে যথাসময়ে, সঠিক নিয়মে পালন করতেন। তাঁদের দেখানো নিয়মে এই ইবাদতসমূহ পালন করাই একজন মুসলিমের প্রধান কর্তব্য। ইসলামের আনুষ্ঠানিক ইবাদতসমূহের মধ্যে প্রধান হলো—নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত।
পরম সুখের আবাস জান্নাত থেকে দুনিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হলো আমাদের আদি পিতা-মাতা আদম-হাওয়া (আ.) দম্পতিকে। প্রথম মানবসংসারের গোড়াপত্তন হলো পৃথিবীর বুকে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ল মানুষ। গড়ে উঠল ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মানুষের জন্য পথনির্দেশিকা পাঠালেন। যারা এই নির্দেশিকা অনুসারে চলবে, তারা ফিরে পাবে জান্নাত; আদমের আদিম ঠিকানা।
আয়িশা (রা.) মুমিনদের মা; প্রিয়নবির প্রিয়তমা স্ত্রী। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পূর্ণ এই মহীয়সীর পবিত্রতা স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কর্তৃক সত্যায়িত। সুন্নাহ ও ফিকহের জ্ঞানে তিনি ছিলেন জলিলুল কদর সাহাবিগণেরও শিক্ষক! উমর (রা.)-এর মতো মহান খলিফার ভুলও তিনি শুধরে দিতেন প্রজ্ঞার সাথে! তাঁর বুদ্ধিমত্তা ছিল আরবের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে পণ্ডিতদের নিকটও সমাদৃত। এই মহীয়সীর জীবনের সাথে মিশে আছে সুখী…
হর রহমত থেকে বিতাড়িত ইবলিস চায়—বনি আদম আল্লাহর দেখানো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ুক। তাই সে ডান-বাম, সম্মুখ ও পশ্চাৎ থেকে বিভিন্নভাবে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। সরল পথ থেকে বিচ্যুত করতে তাদের সামনে সুশোভিত করে তোলে জাহেলিয়াতের নানা মত, পথ ও উপকরণসমূহ। কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুসারীগণ ভালো করেই জানেন, জাহেলিয়াতমাত্রই অজ্ঞতার নিরালোক অন্ধকার। আদমের অন্তরকে জুলুমাত আর গোমরাহিতে বিষিয়ে…
চিন্তাশক্তি মানুষের একটি মৌলিক গুণ, ব্যক্তিভেদে চিন্তা ও অন্তর্দৃষ্টি ভিন্ন হয়ে থাকে। ইসলামি শরিয়াহর বিধিবিধানের ক্ষেত্রেও চিন্তার স্বাতন্ত্র্য বা মতভেদ খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এই মতভেদকে অস্বীকার করার অর্থ হলো—মানবজাতির চিন্তার স্বাতন্ত্র্যকে অস্বীকার করা। যুগে যুগে বিভিন্ন ইস্যুতে এই মতভিন্নতার কল্যাণেই উম্মাহ পেয়েছে অসংখ্য জটিল মাসয়ালার সমাধান। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন মুসলিম উম্মাহর মিলের জায়গা খোঁজা। একই সাথে…
আপনার চারপাশে কি এমন কেউ আছে, যে ইসলাম সম্পর্কে একেবারই অজ্ঞ; কিন্তু জানতে চায় ইসলামকে একদম শুরু থেকে? এমন কেউ কি আছে, যে গোমরাহির কালো অধ্যায় শেষে নতুন করে ইসলামের ছায়াতলে ফিরতে চায়; কিন্তু জানে না ইসলামের মৌলিক বিধিবিধান জানার যাত্রা কীভাবে শুরু করবে? আপনার পরিবারে কি কিশোর বালক-বালিকা রয়েছে, যাদের হাতে-কলমে শেখাতে চান ইসলামের মৌলিক ইবাদাতসমূহের নিয়মকানুন, প্রয়োজনীয় মাসয়ালা-মাসায়েলসহ…
মানুষ সাধারণত বদলাতে চায় না। সে যেমন আছে, তেমনই থাকতে চায়। তাই কাউকে বদলানোর আহ্বান জানালে সে রাগ করে। আবার কেউ দূরে চলে যায়। এমনকী পরিবর্তনের আহ্বানের জন্য অন্তরঙ্গ বন্ধুর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘটনাও ঘটে অহরহ। দাওয়াতের অর্থ—বদলে যাওয়ার আহ্বান জানানো। হয়তো বর্তমান অবস্থার আমূল পরিবর্তনের আহ্বান, নয়তো তার মানোন্নয়নের আহ্বান। এই হচ্ছে মূলকথা। দাওয়াতের এই সুমহান দায়িত্ব সবচেয়ে ভালোভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন…
নাস্তিকদের উত্থাপিত যাবতীয় প্রশ্ন, অভিযোগ আর আপত্তির প্রতি উত্তর নিয়েই রচিত হলো 'জবাব'। চিন্তাশীল, ভাবনা জাগানিয়া গবেষণাধর্মী লেখার সমৃদ্ধ একটি সংকলন এটা। প্রানোচ্ছলে ভরপুর একঝাঁক তরুণ লেখকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এই গ্রন্থ।
নাস্তিক আর সংশয়বাদীদের ইসলাম নিয়ে তোলা প্রশ্নগুলি যে অযৌক্তিক ও অজ্ঞানতা প্রসূত, বইটিতে লেখক তা খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। ‘সাজিদ’ নামে একজন বিশ্বাসী চরিত্র অংকন করে অভিনব পদ্ধতিতে নাস্তিকদের এইসব যুক্তিগুলোকে খন্ডন করার প্রয়াস নি:সন্দেহে লেখকের লেখনী শক্তির বিশেষ পরিচায়ক যা পাঠকদেরকে একঘেয়েমিতা মুক্তভাবে চিরন্তন এক মহা সত্যের সামনে নিয়ে যায় অবলীলায়!
অন্যদের বিশেষ সহযোগিতা ছাড়া সহজভাবে যারা কুরআন শিখতে চান, বইটি তাদের জন্যে সহায়িকা হতে পারে। বিশেষ করে যারা পূর্বে কুরআন পড়া শিখেছিলেন কিন্তু দীর্ঘ দিন চর্চা না থাকার কারনে নিয়ম-কানুনগুলো ভুলে গেছেন বইটি তাদের জন্যে খুবই কার্যকরী হতে পারে।